||BanglaClub||.your place to be

tHE oNE & ONLY

অবিলম্বে প্রতিশ্র”ত পরিবর্তন আনার চাপে ওবামা

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হওয়ার পর জয়ের আনন্দ উপভোগের তেমন সময় নেই বারাক ওবামার। যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিশ্র”ত পরিবর্তন আনার জন্য বড় বড় কাজগুলো এখন অবিলম্বে সেরে নেওয়ার চাপ আছে তার ওপর। আগামী ২০ জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেবেন ওবামা। তার আগে এখন থেকেই তাকে নানা পরিকল্পনা নিতে হবে। চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় দল গঠন করতে হবে।

ইরাক-আফগান যুদ্ধ এবং গভীর অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ওবামাকে প্রথমেই প্রশাসন গোছাতে হবে। সরকারের উচ্চপদগুলোতে নিয়োগ দিতে হবে নতুন লোক। বিশেষ করে দেশের অর্থমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মতো বড় পদগুলোতে দ্রুত লোক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেওয়া তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।

রাজনৈতিক নেতারা ইতোমধ্যেই বিশ্ব অর্থনৈতিক সংকট কাটাতে ওবামাকে নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা গড়ায় সাহায্য করার আহ্বান জানিয়েছেন। এদিক থেকে অর্থনীতিকে নতুন আঙ্গিক দেওয়াও তার সামনে বড় চ্যালেঞ্জ।

ইরাক ও আফগানিস্তান যুদ্ধ এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট মোকাবেলায় বড় বড় পদগুলোতে দ্রুত যোগ্য লোক নিয়োগ দেয়া প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক সরকারি কর্মকর্তা ও নীতি নির্ধারণে জড়িত ব্যক্তিরা।

সাবেক বিল ক্লিনটন সরকারের অভ্যন্তরীণ নীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ও ম্যারিল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক উইলিয়াম গ্লাস্টন বলেন, “দুটি যুদ্ধ চলছে এবং অর্থনৈতিক সঙ্কট এখনও কাটেনি। এমন পরিস্থিতিতে নতুন প্রশাসন সহজেই গতিশীল হয়ে উঠতে পারে না।”

কিছু কিছু বিশ্লেষক মনে করেন, অর্থমন্ত্রীর মতো কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদে শিগগিরি নতুন লোকের নাম ঘোষণা করা হতে পারে। এ পদগুলোতে ইতোমধ্যেই কয়েকজনের নাম শোনা যাচ্ছে।

ওবামার প্রশাসনে অর্থমন্ত্রীর পদের তালিকায় রয়েছেন, সাবেক অর্থমন্ত্রী লরেন্স সামারস, সাবেক ফেডারেল রিজার্ভ চেয়ারম্যান পল ভোলকার ও নিউ ইয়র্ক ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট টিমোথি গিদনার। এছাড়া, শীর্ষ ধনী ওয়ারেন বাফেট, শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতিবিদ অস্টান গুলসবি ও সাবেক হোয়াইট হাউজ কর্মকর্তা জ্যাসন ফুরমানও ওবামার পছন্দের তালিকায় রয়েছেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে ম্যাসাচুসেটসের ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন কেরি, সাবেক কূটনীতিক রিচার্ড হলব্র”ক, রিপাবলিকান দলের বিদায়ী সিনেটর চাক হ্যাগেল ও জর্জিয়ার সাবেক ডেমোক্র্যাট সিনেটর স্যাম নানের নাম তালিকায় রয়েছে।

এছাড়া, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা পদের জন্য সাবেক ক্লিনটন উপদেষ্টা জেমস স্টেইন বার্গ ও ক্লিনটনের সহযোগী সুসান রাইসের নাম শোনা হচ্ছে।

হোয়াইট হাউজ বা পররাষ্ট্র বিভাগেরর গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে আসতে পারেন ওবামার নির্বাচনী প্রচারণায় পররাষ্ট্র নীতি বিশেষজ্ঞ হিসেবে কাজ করা তিন সহযোগী- মার্ক লিপার্ট, ডেনিম ম্যাকডোনাফ ও বেন রোডস।

ইরাক ও আফগান যুদ্ধ চলার প্রেক্ষাপটে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর পদে বর্তমান দায়িত্ব পালনকারী রবার্ট গেটসকেই বহাল রাখতে পারেন ওবামা। তবে এক্ষত্রে সাবেক নৌ-মন্ত্রী রিচার্ড ড্যানজিংকেও দায়িত্ব দেয়া হতে পারে।

এছাড়া, হোয়াইট হাউজের গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন পদেও দ্রুত পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠ নেতা টম ড্যাশেল ও ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি র‌্যাম ইমানুয়েলকে সেনাবাহিনী প্রধানের পদের জন্য বিবেচিত হচ্ছেন। এছাড়া হোয়াইট হাউজের প্রেস সচিব হিসেবে ওবামার যোগাযোগ উপদেষ্টা রবার্ট গিবসের নাম আলোচিত হচ্ছে।

যুদ্ধকালীন পরিবর্তন

১৯৬৮ সালের পর এই প্রথম যুদ্ধ চলার মসয় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট পদে পরিবর্তন এসেছে। এই প্রেক্ষাপটে পরিবর্তনকে যত সহজে সম্ভব খাপ খাইয়ে নেয়ার জন্য তৎপর পেন্টাগন। পেন্টাগনের মুখপাত্র ব্রায়ান হোয়াইটম্যান বলেন, “১৯৬৮ সালের ভিয়েতনাম যুদ্ধের পর এটাই প্রথম যুদ্ধ চলাকালে সরকার পরিবর্তন। ওই সময় প্রেসিডেন্ট জনসনের কাছ থেকে ক্ষমতা নিয়েছিলেন রিচার্ড নিক্সন। এবার ওবামা প্রশাসনকে সবকিছু ঠিকঠাক জানাতে আমরা প্রস্তুত।”

ইরাক ও আফগান যুদ্ধ ছাড়াও ইরানের পরমাণু কর্মসূচিসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তার বিষয়েও মাথা ঘামাতে হয় বিশ্বের একমাত্র সুপার পাওয়ারের প্রেসিডেন্টকে।

ওবামা প্রশাসনকে ইরাক যুদ্ধের ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিতে হবে। ইরাকে আমেরিকার দেড় লাখ সেনা রয়েছে। এছাড়া আফগানিস্তানে রয়েছে আরো ৩০ হাজার সেনা।

ওবামা ইরাক যুদ্ধের বিরোধী। এর আগে ইরাক থেকে সেনা প্রত্যাহারে নির্দিষ্ট সময়মীমা ঘোষণার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছিলেন তিনি। এজন্য তিনি ১৬ মাসের সময়সীমার প্রস্তাব দেন। তবে শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তাদের মধ্যে নৌ বাহিনীর অ্যাডমিরাল মাইক মুলেন, চেয়ারম্যান অফ দ্য জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ জেনারেল ডেভিড পেত্রাউস এ ধরনের কোনো নির্দিষ্ট সময়সীমা ঘোষণার বিরোধিতা করবেন বলে জানিয়েছেন।

November 6, 2008 Posted by | Politics | , , | Leave a comment